🎬 The Water Diviner (2014)
পরিচালক: রাসেল ক্রো
অভিনয়: রাসেল ক্রো, অলগা কুরিলেঙ্কো, জায়ে কোর্টনি
ধরন: যুদ্ধভিত্তিক ড্রামা, ইতিহাসনির্ভর, আবেগঘন গল্প
মুক্তি: ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৪
🎥 কাহিনীর সংক্ষিপ্তসারঃ
সিনেমাটি শুরু হয় ১৯১৯ সালে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার ঠিক পরেই। কাহিনির মূল চরিত্র জোশুয়া কনর, একজন অস্ট্রেলিয়ান কৃষক এবং পানি খোঁজার বিশেষজ্ঞ (ওয়াটার ডিভাইনার)। তাঁর তিন ছেলে — আর্থার, এডওয়ার্ড ও হেনরি — চার বছর আগে গ্যালিপোলির যুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড আর্মি কোর (ANZAC)-এর হয়ে যুদ্ধ করেছিল এবং তাদের মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়েছে।
স্ত্রী এলাইজা সন্তানদের শোক সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করলে, জোশুয়া সংকল্প করেন তিনি নিজের ছেলেদের মৃতদেহ খুঁজে এনে মায়ের পাশে সমাধিস্থ করবেন।
তিনি তুরস্কে যান এবং ইস্তাম্বুলের এক হোটেলে উঠেন যা পরিচালনা করেন এক যুদ্ধবিধবা নারী আয়শে। তবে তিনি গ্যালিপোলিতে সড়কপথে যেতে ব্যর্থ হন। তাঁর উদ্দেশ্য জানার পর, আয়শে তাঁকে পরামর্শ দেন যেন তিনি এক স্থানীয় জেলেকে ঘুষ দিয়ে নৌকায় গ্যালিপোলি পৌঁছান।
গ্যালিপোলিতে পৌঁছে জোশুয়া জানতে পারেন যে ANZAC বাহিনী গণকবর দেওয়ার কাজ করছে এবং সব সাধারণ নাগরিকের প্রবেশ নিষিদ্ধ। তুর্কি সেনাবাহিনীর অফিসার মেজর হাসান, যিনি ANZAC বাহিনীকে সাহায্য করছিলেন, জোশুয়ার একমাত্র বাবার মতো আগ্রহ দেখে তাকে সহায়তা করতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিউজেস-কে রাজি করান।
এডওয়ার্ড ও হেনরির কবর খুঁজে পাওয়ার পর, জোশুয়া স্বপ্নে দেখতে পান আর্থার যুদ্ধ থেকে বেঁচে গেছেন। হাসান তাঁর পদবি চিনে তাঁকে জানান যে আর্থার হয়তো বন্দি হয়েছিলেন।
জোশুয়া ইস্তাম্বুলে ফিরে যান, তবে জানতে পারেন যে আর্থারকে কোন বন্দিশিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে, তা জানা সম্ভব নয় কারণ তুর্কি রেকর্ডগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি আবার আয়শের হোটেলে ফিরে যান এবং শোনেন যে আয়শেকে তাঁর দেওর ওমর বিয়ে করতে বাধ্য করছে।
তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হলে, জোশুয়া হস্তক্ষেপ করলে ওমর সরে যায়। তখন রেগে গিয়ে আয়শে জোশুয়াকে দোষ দেন এবং হোটেল ছেড়ে যেতে বলেন।
জোশুয়া যখন হোটেল ছাড়ছেন, তখন ওমর ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু জোশুয়ার ওপর আক্রমণ করে, কিন্তু সার্জেন্ট জেমাল এসে তাঁকে বাঁচান এবং তাঁকে হাসানের কাছে নিয়ে যান। হাসান জানান, গ্রিক সেনারা আক্রমণ করেছে এবং ব্রিটিশরা হস্তক্ষেপ না করায় তাঁরা দেশ রক্ষায় প্রস্তুত হচ্ছেন। জোশুয়া সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি হাসানের দলের সঙ্গে যাবেন, কারণ তাঁদের রুটে তাঁর ছেলের সম্ভাব্য অবস্থান আছে। হোটেলে ফিরে নিজের জিনিসপত্র তুলতে গেলে, আয়শে আগের কথার জন্য ক্ষমা চায়।
ট্রেন ভ্রমণের সময়, জেমাল জোশুয়াকে জিজ্ঞেস করে ট্রেঞ্চ থেকে পাওয়া এক ক্রিকেট ব্যাট সম্পর্কে — সেটি অস্ত্র কি না বুঝতে পারছিল না। তখন জোশুয়া ট্রেনে থাকা তুর্কি সৈন্যদের ক্রিকেটের নিয়ম বোঝান।
এই সময় গ্রিক সৈন্যরা ট্রেন আক্রমণ করে। প্রাথমিক আক্রমণে কেবল জেমাল, হাসান ও জোশুয়া বেঁচে যান। এক পর্যায়ে এক গ্রিক অফিসার হাসানকে হত্যা করতে গেলে, জোশুয়া ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে তাঁকে রক্ষা করেন, তবে লড়াইয়ে জেমাল নিহত হয়।
জোশুয়া ও হাসান কাছের এক শহরে পালিয়ে যান, যেখানে একটি উইন্ডমিল দেখতে পান — যা তিনি বারবার স্বপ্নে দেখেছেন। সেখানে তিনি আর্থারকে জীবিত খুঁজে পান, তবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
আর্থার জানান, যুদ্ধ শেষে এডওয়ার্ড তখনও জীবিত ছিলেন কিন্তু গুরুতর আহত। এডওয়ার্ড কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে অনুরোধ করলে, আর্থার বাধ্য হয়ে তাঁর অনুরোধ মেনে নেন। এই ঘটনার জন্য নিজেকে দায়ী করে আর্থার বিশ্বাস করেন যে তিনি আর কখনো পরিবারের কাছে ফিরতে পারবেন না।
এরই মধ্যে, আগের সেই গ্রিক সৈন্যদল শহরে আক্রমণ চালায় এবং জোশুয়া ও আর্থার পাহাড়ের দিকে পালানোর চেষ্টা করেন। আর্থার প্রথমে যেতে অস্বীকার করলেও, জোশুয়া বলেন, "তোমাদের ছাড়া আমার আর কিছুই নেই" — এতে আর্থার রাজি হয়।
তারা গ্রিক বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে আবার আয়শের হোটেলে ফিরে আসে। সিনেমার শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, জোশুয়া আয়শের বানানো কফি পান করছেন — যা আয়শের ভালোবাসার সূচক।
🎭 অভিনয়ঃ
রাসেল ক্রো শুধু পরিচালক হিসেবেই নয়, একজন অভিনেতা হিসেবেও অনবদ্য। তাঁর অভিনয়ে বাবার বেদনা, সংকল্প ও ভালোবাসা দারুণভাবে প্রকাশ পেয়েছে। অলগা কুরিলেঙ্কো ও অন্যান্য চরিত্ররাও যথেষ্ট শক্তিশালী পারফরম্যান্স দিয়েছেন।
🎬 পরিচালনা ও চিত্রনাট্যঃ
এটি রাসেল ক্রোর পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র এবং তিনি চমৎকারভাবে আবেগ ও বাস্তবতাকে পর্দায় উপস্থাপন করেছেন। তুরস্কের প্রেক্ষাপট, ইতিহাস, এবং যুদ্ধ-পরবর্তী মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি খুব সংবেদনশীলভাবে দেখানো হয়েছে। গল্প কিছু জায়গায় ধীর গতির হলেও, আবেগঘন মুহূর্তগুলো দর্শককে ছুঁয়ে যায়।
🌄 চিত্রগ্রহণ ও সাউন্ডট্র্যাকঃ
তুরস্কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও যুদ্ধ পরবর্তী পরিবেশ খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আবহের সাথে দারুণভাবে মিশে গেছে।
✅ ভাল দিকঃ
- হৃদয়স্পর্শী কাহিনী
- রাসেল ক্রোর দুর্দান্ত অভিনয় ও পরিচালনা
- চমৎকার লোকেশন ও চিত্রগ্রহণ
- আবেগপ্রবণ ও মানবিক বার্তা
❌ খারাপ দিকঃ
- ধীরগতি কিছু দর্শকের কাছে বিরক্তিকর লাগতে পারে
- ইতিহাসপ্রেমী না হলে কিছু অংশে আগ্রহ হারাতে পারেন
🎯 শেষ কথাঃ
"The Water Diviner" শুধুমাত্র একটি যুদ্ধ-পরবর্তী কাহিনী নয়, এটি এক পিতার আশা ও ভালবাসার প্রতীক। যারা আবেগঘন গল্প পছন্দ করেন এবং ইতিহাসনির্ভর সিনেমায় আগ্রহী, তাদের জন্য এই সিনেমা একদম উপযুক্ত।

0 Comments