![]() |
| The Girl Next Door (2007 film) |
"দ্য গার্ল নেক্সট ডোর" (২০০৭) চলচ্চিত্রটি জ্যাক কেচামের একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং মনস্তাত্ত্বিকভাবে পীড়াদায়ক ছবি। এটি একটি সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত, যা ১৯৫০-এর দশকে আমেরিকায় ঘটেছিল।
প্লট সংক্ষেপ:
২০০৭ সাল, নিউ ইয়র্ক সিটি। ডেভিড মরান হঠাৎই রাস্তায় এক ভয়ংকর দৃশ্যের সাক্ষী হন—একজন মানুষ গাড়ি চাপা পড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, আর কেউ থামছে না। ডেভিড ছুটে যান, তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন CPR দিয়ে। কিন্তু ওই রাত্রে, একাকী ঘরে বসে, তার মনে পড়ে যায় সেই গ্রীষ্মকাল—১৯৫৮ সালের গ্রীষ্ম, যা তার জীবনটা উলটপালট করে দিয়েছিল।
সেই সময় ডেভিড ছিল কেবল একজন কিশোর, যখন সে প্রথমবারের মতো প্রেমে পড়েছিল—মেগ লাফলিন নামের এক মেয়ের। মেগ আর তার ছোট, পঙ্গু বোন স্যুজান গাড়ি দুর্ঘটনায় মা-বাবাকে হারিয়ে চলে আসে নিজের খালা রুথ চ্যান্ডলারের বাসায়। রুথের ঘরে থাকে তার তিন ছেলে—উইলি, রালফি আর ডনি।
রুথ ছিলেন অদ্ভুত ধাঁচের মানুষ। আশেপাশের ছেলেপেলেদের, এমনকি ডেভিডকেও, স্বাগত জানাতেন তার বাসায়। তাদের বসিয়ে রেখে সিগারেট আর বিয়ার খাওয়াতেন, যেনো এক প্রাপ্তবয়স্কদের পার্টি চলছে! কিন্তু একই সঙ্গে, তিনি শুরু করেন মেগের ওপর এক নির্মম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন—তাকে খাওয়াতে না দিয়ে, অপমান করে, তাকে “দুশ্চরিত্রা” বলে গালাগালি করেন।
একদিন, রালফি যখন মেগকে বাজেভাবে ছোঁয়ার চেষ্টা করে, তখন মেগ প্রতিরোধ করে চড় মারে। ব্যস! সেই মুহূর্তেই শুরু হয় আরেক ধাপে নির্যাতন। রুথ বদলা নিতে স্যুজানকে উলঙ্গ করে মারধর করেন, মেগকে জোর করে দেখতে বাধ্য করেন। এমনকি মেগের মায়ের দেওয়া শেষ স্মৃতিচিহ্ন, একটি আংটির হারও কেড়ে নেন। মেগ প্রতিবাদ জানাতে যায় স্থানীয় পুলিশ অফিসার লাইল জেনিংসের কাছে। কিন্তু পুলিশ কোন কড়া ব্যবস্থা নেয় না। এই খবর জানার পর, রুথ ক্ষিপ্ত হয়ে মেগকে বেজায় শাস্তি দেয়—তার ছেলেদের নিয়ে মেগকে বেজমেন্টে বেঁধে রাখে, তার জামাকাপড় খুলে চাবুক মারে, এমনকি তাকে ছাদের কাঠের মরীচিতে ঝুলিয়ে রাখে সারারাত। পরের দিন মেগ এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে, মুখে দেওয়া শুকনো টোস্ট পর্যন্ত গিলতে পারে না। এর দায়ে আবার স্যুজানকেই শাস্তি দেয় রুথ। আরও ভয়ানক ব্যাপার ঘটে এরপর—রুথ আশপাশের বাচ্চাদের পর্যন্ত আমন্ত্রণ জানায় মেগকে দেখতে, তার গায়ে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিতে, তার শরীর কেটে ফেলার খেলায় যোগ দিতে। যেন মেগ একটা খেলনার পুতুল, যাকে ব্যথা দেওয়া মানে মজা পাওয়া!
ডেভিড চেষ্টাও করেছিল তার মা-বাবাকে বলার, কিন্তু ভাষা হারিয়ে ফেলেছিল। অফিসার জেনিংস আবারো আসে, কিন্তু রুথ এমন নাটক করে যে পুলিশ আবার কিছুই করে না। এই ফাঁকে, ডেভিড মেগের বাঁধন আলগা করে দিয়ে বলে—"আজ রাতে পালিয়ে যেও। আমি টাকাও রেখে যাবো জঙ্গলে।" মেগ প্রায় পালিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে স্যুজানকে সঙ্গে নিতে গিয়ে ধরা পড়ে। ডেভিড যখন আবার ফিরে আসে, তখন সে যা দেখে, তা কোনো দুঃস্বপ্নের চেয়েও ভয়াবহ—উইলি মেগকে ধর্ষণ করছে, আর রুথ তাকিয়ে হাসছে। এরপর রুথ একটি গরম ববিপিন দিয়ে মেগের পেটে যৌন বার্তা খোদাই করে, এমনকি তার গোপনাঙ্গে ব্লোটর্চ লাগায়।
রুথ এবং তার ছেলেরা হাহা করে বলে ওঠে—"তুমি পালালেও মরবে, কেউ তোমায় বাঁচাতে পারবে না!" ডেভিড পালাতে চেষ্টা করে, কিন্তু ছেলেরা তাকে বেঁধে ফেলে, আর মেরে অজ্ঞান করে ফেলে। বেশ কিছুক্ষণ পর, ডেভিড জ্ঞান ফিরে পায়—সে নিজেকে মুক্ত করে, আর দেখতে পায় স্যুজান মেগের নিথর দেহের পাশে বসে আছে। স্যুজান জানায়—সে মেগকে বলেছিল, রুথ তাকে যৌন নির্যাতন করতো, আর তাই মেগ একা পালাতে চায়নি। ডেভিড এবার ভাবে, আর অপেক্ষা নয়! সে বেজমেন্টে আগুন লাগায়। আগুন দেখে রুথ যখন নিচে আসে, ডেভিড স্যুজানের ক্রাচ নিয়ে তাকে আঘাত করতে করতে মেরে ফেলে।
ততক্ষণে রুথের ছেলে উইলি ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ডেভিডের ওপর, কিন্তু ঠিক তখনই অফিসার জেনিংস এসে উপস্থিত হন। ছেলে দুটিকে গ্রেফতার করেন, আর স্যুজানকে বাঁচিয়ে নিয়ে যান সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য। ডেভিড তখন একা বসে থাকে মেগের পাশে। সে মেগের গলার হারটি ফিরিয়ে দেয়। মেগ শেষবারের মতো চোখ মেলে, কষ্টে বলে—“ধন্যবাদ, ডেভিড। আমি তোমায় ভালোবাসি।” এরপর চিরতরে নিথর হয়ে যায় তার নিঃশ্বাস।
পুনরায় ফিরে আসি ২০০৭ সালে। ডেভিড তখনো সেই ঘটনার ভার বহন করে বেড়ান, ভুলতে পারেন না কিছুই। কিন্তু একটাই কথা তার মনে গেঁথে থাকে, যেটা একদিন মেগ তাকে বলেছিল— “শেষে কী করো, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” এটাই ছিল এক হৃদয়বিদারক, ভয়ঙ্কর অথচ মূল্যবান সত্যের গল্প—ভালোবাসা, ন্যায় আর সাহসের গল্প, যা ভুলে যাওয়া যায় না।
পর্যালোচনা:
"দ্য গার্ল নেক্সট ডোর" ছবিটি একটি অত্যন্ত বিতর্কিত এবং গভীরভাবে বিরক্তিকর বিষয় নিয়ে কাজ করে। এটি শিশু নির্যাতন এবং মানব নৃশংসতার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।
* ভয়াবহতা এবং বাস্তবতা: ছবির প্রধান শক্তি হল এর নির্মম বাস্তবতা। এটি দর্শকদের এমন এক অন্ধকার দিক দেখায় যা অনেকেই বিশ্বাস করতে চান না যে বাস্তবে ঘটতে পারে। ছবিটি স্পষ্ট করে দেখায় যে কীভাবে মানুষের অন্ধকার দিকটি বেরিয়ে আসতে পারে এবং কীভাবে একদল মানুষ মিলে এক নিরীহ মেয়ের জীবনকে ধ্বংস করতে পারে।
.png)
0 Comments