The Duke of Burgundy (2014) movie explained in Bengali

The Duke of Burgundy
The Duke of Burgundy

 

"The Duke of Burgundy" (২০১৪) একটি চলচ্চিত্র যা বিডিএসএম (BDSM) সম্পর্কের গভীরে প্রবেশ করে, কিন্তু এটিকে কেবলমাত্র যৌনতার বাইরে নিয়ে গিয়ে সম্পর্কের জটিলতা, ক্ষমতা, আকাঙ্ক্ষা এবং প্রেমের এক ভিন্ন দিক তুলে ধরে। পিটার স্ট্র্যািকল্যান্ড পরিচালিত এই ছবিটিকে অনেকেই 'আর্ট ফিল্ম' হিসেবে দেখেন, যা তার স্বতন্ত্র ভিজ্যুয়াল স্টাইল এবং আখ্যানের জন্য প্রশংসিত হয়েছে।

কাহিনী সংক্ষেপ:

ইভলিন এক অদ্ভুত ও মনোমুগ্ধকর জগতের ছাত্রী — সে লেপিডপ্টারোলজি, মানে প্রজাপতি নিয়ে পড়াশোনা করছে, আর তার শিক্ষক সিনথিয়া, একজন জ্ঞানী ও কিছুটা রাশভারী মহিলা, প্রায়ই ক্লাসে নিজের গবেষণা নিয়ে বক্তৃতা দেন। তবে গল্পটা শুধু প্রজাপতি নিয়ে নয়, বরং ইভলিন আর সিনথিয়ার সম্পর্কটা নিয়েই জমে উঠেছে।

ইভলিন, সিনথিয়ার বাড়িতে গৃহপরিচারিকার মতো কাজ করে, যেখানে তাকে মানতে হয় কঠোর নিয়ম-কানুন, আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার একেবারে শীর্ষ মান। কোনো কাজে একটু খুঁত থাকলেই শাস্তি পেতে হয়। তবে ব্যাপারটা যতটা জটিল শোনায়, তার চাইতেও বেশি নাটকীয়তা লুকিয়ে আছে এতে।

আসলে ইভলিনই এই নাটকের পরিচালক! প্রতিদিন সিনথিয়ার জন্য সে হাতে লিখে রেখে যায় স্ক্রিপ্ট — কখন কী বলতে হবে, কীভাবে রাগ দেখাতে হবে, শাস্তি দিতে হবে — সব কিছু। সিনথিয়া যদিও এ অভিনয়ে বিশেষ আনন্দ পান না, তবুও প্রিয় ইভলিনকে খুশি রাখতে তিনি অভিনয় করে যান।

একবার সিনথিয়া জন্মদিনে ইভলিনকে চমক দিতে চান — একটা বিশেষ শাস্তির বিছানা বানানোর অর্ডার দেন, যেটার নিচে থাকছে একটি ড্রয়ার যেখানে ইভলিন শুতে পারবে। কিন্তু ইভলিন হতাশ — কারণ বিছানা বানাতে অনেক সময় লাগবে! ফলে সেই জন্মদিনের উপহারও বাতিল।

এরপর ইভলিন নতুন শাস্তির দাবি করে — তাকে প্রতি রাতে একটি ট্রাঙ্কের মধ্যে তালা মেরে রাখতে হবে। সিনথিয়া রাজি হন, কিন্তু নিজের মধ্যে একটা রাগ আর বিরক্তি জমে ওঠে। তার ওপর, ট্রাঙ্ক টানতে গিয়ে সিনথিয়ার পিঠে চোট লাগে, বয়সের কথাও মনে পড়ে যায় বারবার।

দু’জনের সম্পর্কটা যেন ধীরে ধীরে এক অদ্ভুত খেলায় রূপ নিচ্ছে, যেখানে ইভলিনের চাহিদা আর সিনথিয়ার মনের জট একে অন্যকে জটিল করে তুলছে। একদিন সিনথিয়া সন্দেহ করেন — ইভলিন বুঝি অন্য এক বক্তার জুতো পালিশ করেছে! এটা তিনি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে নেন। আর সেই জন্মদিনে, ইভলিনকেই নিজের কেক বানাতে বলা হয় — যেটা খেতে খেতে সিনথিয়া পা রেখে দেন ইভলিনের মুখে! ইভলিন সহ্য করতে না পেরে ‘সেইফওয়ার্ড’ বলে — “পিনাস্ট্রি” — কিন্তু সিনথিয়া তখনও থামেন না।

সবশেষে, প্রতিদিনের মতোই আবার সেই নাটকীয় দৃশ্য শুরু হয়, কিন্তু হঠাৎ করেই সিনথিয়া চরিত্র ভেঙে কেঁদে ফেলেন। ইভলিন এগিয়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে, বলে, "আমি তোমায় ভালোবাসি।"

এরপর দেখা যায়, ইভলিনের লেখা সেই সব নিয়মপত্র পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তারা মিলে ট্রাঙ্কটাও বের করে আনছে। কিন্তু কাহিনি এখানেই শেষ নয় — সিনেমার শেষ দৃশ্যে, ইভলিন আবার সেই বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কলিং বেল চাপছে... যেন সবকিছু আবার নতুন করে শুরু হবে।

আর এভাবেই, প্রজাপতির মতোই তাদের সম্পর্ক — কখনো রঙিন, কখনো আবদ্ধ, আবার কখনো উড়ে যাবার মতো স্বাধীন... কিন্তু সবসময়ই এক অদ্ভুত মোহময় খেলার মাঝে।

মূল বিষয়বস্তু ও বিশ্লেষণ:

 * সম্পর্কের গতিশীলতা (Relationship Dynamics): ছবিটি দেখায় যে কীভাবে একটি সম্পর্ক সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। ইভলিনের আকাঙ্ক্ষা এবং সিন্থিয়ার ক্লান্তি সম্পর্কের মধ্যে একটি জটিল টানাপোড়েন তৈরি করে। এটি কেবল বিডিএসএম সম্পর্ক নয়, বরং যেকোনো সম্পর্কের মধ্যে থাকা ক্ষমতা, চাওয়া এবং না-চাওয়ার দিকগুলো তুলে ধরে। কে কাকে নিয়ন্ত্রণ করছে, কে আসলে কী চায়, এবং কে কার জন্য পরিবর্তিত হচ্ছে - এই প্রশ্নগুলো ছবিতে বারবার উঠে আসে।

 * আকাঙ্ক্ষা এবং সীমাবদ্ধতা (Desire and Limitation): ইভলিনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং সিন্থিয়ার সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে অক্ষমতা ছবির অন্যতম প্রধান বিষয়। এটি দেখায় যে কীভাবে একজনের প্রবল চাওয়া অন্যকে একটি ছকের মধ্যে বেঁধে ফেলে, যা থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন। আকাঙ্ক্ষার প্রকৃতি এবং সেটির সন্তুষ্টির সীমাবদ্ধতা নিয়ে ছবিটি গভীর প্রশ্ন তোলে।
 * বাস্তবতা বনাম কল্পনা (Reality vs. Fantasy): তাদের বিডিএসএম খেলাটি একটি পরিকল্পিত ফ্যান্টাসি। কিন্তু এই ফ্যান্টাসি যখন বাস্তবতার উপর চাপ সৃষ্টি করে, তখন সম্পর্কটি জটিল হয়ে ওঠে। ছবিটি এই বিভেদটি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে যে, কীভাবে আমাদের কল্পনার জগৎ বাস্তবতার সঙ্গে মিশে যায় এবং কখনো কখনো সেটিকে অতিক্রম করে যায়।
 * নন্দনতত্ত্ব এবং প্রতীকবাদ (Aesthetics and Symbolism): ছবির ভিজ্যুয়াল স্টাইল অত্যন্ত স্বতন্ত্র এবং শৈল্পিক। প্রজাপতি, পোকা-মাকড় এবং এনটোমলজি (পতঙ্গবিদ্যা) সংক্রান্ত রেফারেন্স ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রজাপতিরা তাদের জীবনচক্রের মধ্য দিয়ে যেমন রূপান্তরিত হয়, তেমনি সিন্থিয়া ও ইভলিনের সম্পর্কও বিভিন্ন ধাপের মধ্য দিয়ে যায়। ছবির গাঢ় রং, পোশাক এবং সেট ডিজাইন একটি পরাবাস্তব জগত তৈরি করে, যা ছবির থিমগুলিকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। কোনো পুরুষ চরিত্র ছাড়াই একটি সম্পূর্ণ নারী-প্রধান জগতের চিত্রায়ণও ছবির একটি বিশেষ দিক।
 * যৌনতা বনাম প্রেম (Sexuality vs. Love): যদিও ছবিতে বিডিএসএম একটি কেন্দ্রীয় উপাদান, এটি কোনোভাবেই যৌনতার বাড়াবাড়ি প্রদর্শন করে না। বরং, সম্পর্ক এবং প্রেমের গভীরতা অন্বেষণ করে। এটি দেখায় যে, প্রেমের মধ্যে যৌন আকাঙ্ক্ষা কীভাবে কাজ করে এবং সম্পর্কের জন্য কতটা ত্যাগ স্বীকার করা যায়।

প্রাপ্যতা:

"The Duke of Burgundy" একটি আন্ডাররেটেড এবং শৈল্পিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র। এটি মূলধারার দর্শকদের জন্য না হলেও, যারা সম্পর্কের মনস্তাত্ত্বিক দিক এবং ভিন্নধর্মী সিনেমাটোগ্রাফি পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ অভিজ্ঞতা হতে পারে। ছবিটি তার মেজাজ, ভিজ্যুয়াল এবং অভিনয়ের জন্য সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত হয়েছে। এটি একটি সুন্দর কিন্তু একইসাথে বিষণ্ণ গল্প, যা সম্পর্কের জটিলতা এবং মানব আকাঙ্ক্ষার গভীরতা নিয়ে চিন্তা করতে বাধ্য করে

Post a Comment

0 Comments