![]() |
| Pajarico movie scene |
১৯৯৭ সালের স্প্যানিশ ড্রামা ফিল্ম "Pajarico" (যার ইংরেজি নাম "Little Bird") পরিচালনা করেছেন বিখ্যাত কার্লোস সাউরা (Carlos Saura)। এটি একটি মর্মস্পর্শী গল্প, যেখানে একটি ছোট ছেলে তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের সময় তার আত্মীয়দের সাথে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটানোর জন্য স্পেনের মুর্সিয়া (Murcia) অঞ্চলে আসে এবং সেখানে তার প্রথম প্রেম ও প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের প্রথম ধাপের অভিজ্ঞতা লাভ করে।
প্লট:
গল্পটি শুরু হয় দশ বছর বয়সী মানু (Manu) কে নিয়ে। মাদ্রিদে তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ চলছে, এবং এই কঠিন সময়ে তাকে দূরে রাখার জন্য তাকে মুর্সিয়াতে তার বাবার পরিবারের সাথে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটানোর জন্য পাঠানো হয়। মানু এমন এক পরিবেশে আসে যেখানে প্রকৃতি, বাগান এবং সমুদ্র তাকে ঘিরে রয়েছে, আর তার আত্মীয়দের মধ্যে রয়েছে একদল উৎফুল্ল এবং উষ্ণ হৃদয়ের মানুষ।
মানুর সেখানে তার বিভিন্ন চাচার সাথে সময় কাটাতে হয়। এই পরিবারের সদস্যরা প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব এবং অদ্ভুতুড়ে স্বভাব নিয়ে ভরা। এদের মধ্যে রয়েছে একজন হৃদয়ভাঙ্গা, উভকামী চাচা যার প্রেমিকা সম্প্রতি তাকে ছেড়ে চলে গেছে, একজন তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন দাদু (Paco Rabal অভিনীত, যিনি অসাধারণ অভিনয় করেছেন), এবং ফুয়েনসান্টা (Fuensanta) নামের এক চাচাতো বোন।
মুর্সিয়াতে এই গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে, মানু তার জীবনের প্রথম ভালোবাসার অভিজ্ঞতা লাভ করে ফুয়েনসান্টার সাথে। তাদের মধ্যে একটি নিষ্পাপ "পাপ্পি লাভ" (puppy love) বা বাল্যকালীন প্রেম তৈরি হয়, যা তাকে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের অনুভূতিগুলির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। মানু এই বয়সে জীবনের জটিলতা, দুঃখ, আনন্দ এবং পারিবারিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক অনুভব করে।
ছবিটি মানুর দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়েছে, যেখানে সে তার চারপাশের প্রাপ্তবয়স্কদের জীবন, তাদের সম্পর্ক, তাদের আনন্দ এবং তাদের দুঃখগুলি পর্যবেক্ষণ করে। সে ধীরে ধীরে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের কিছু অপ্রত্যাশিত দিক, যেমন ভালোবাসা, প্রতারণা, দুঃখ এবং মৃত্যুর ধারণাগুলি বুঝতে শুরু করে। এই সময়ের অভিজ্ঞতাগুলো তার মনে গভীর ছাপ ফেলে।
মূল থিম এবং প্রতীকবাদ:
- শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে উত্তরণ (Coming-of-Age): ছবিটির প্রধান থিম হল মানুর শৈশব থেকে কৈশোরে পদার্পণ এবং প্রাপ্তবয়স্ক জগতের জটিলতাগুলো উপলব্ধি করা। গ্রীষ্মকালীন এই ছুটি তার কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় সময় হয়ে দাঁড়ায়।
- পরিবার এবং সম্পর্ক (Family and Relationships): পারিবারিক বন্ধন, আত্মীয়দের মধ্যেকার সম্পর্ক এবং তাদের ব্যক্তিগত জীবনের উত্থান-পতন ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি একটি বৃহৎ, প্রাণবন্ত স্প্যানিশ পরিবারের একটি চিত্র তুলে ধরে।
- স্মৃতি এবং নস্টালজিয়া (Memory and Nostalgia): ছবিটি আংশিকভাবে পরিচালক কার্লোস সাউরার নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি নস্টালজিক আবহ তৈরি করে এবং স্মৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে।
- প্রথম প্রেম (First Love): মানু এবং ফুয়েনসান্টার মধ্যেকার নিষ্পাপ প্রেম ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা শৈশবের সংবেদনশীলতা এবং আবিষ্কারকে তুলে ধরে।
- প্রকৃতি এবং পরিবেশ: মুর্সিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বাগান এবং সমুদ্র ছবির সেটিংকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে এবং চরিত্রের মানসিক অবস্থার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে।
পরিচালক:
- কার্লোস সাউরা (Carlos Saura)
প্রধান অভিনেতা-অভিনেত্রী:
- আলেজান্দ্রো মার্টিনেজ (Alejandro Martínez) - মানু (Manu)
- ফ্রান্সিসকো রাবাল (Francisco Rabal) - দাদু (Grandfather)
- ডাফনে ফার্নান্দেজ (Dafne Fernández) - ফুয়েনসান্টা (Fuensanta)
- ম্যানুয়েল ব্যান্ডেরা (Manuel Bandera) - চাচা হুয়ান (Uncle Juan)
- জুয়ান লুইস গালিয়ার্দো (Juan Luis Galiardo) - চাচা এমিলিও (Uncle Emilio)
"Pajarico" একটি কোমল এবং অন্তর্মুখী চলচ্চিত্র, যা একটি শিশুর চোখে জীবনের বাস্তবতা, সম্পর্ক এবং অনুভূতির গভীরতাকে তুলে ধরে। এটি কার্লোস সাউরার অন্যতম সংবেদনশীল কাজ হিসেবে পরিচিত।
What the Peeper Saw -movie explained in Bengali
![]() |
| What the Peeper Saw movie scene |
১৯৭২ সালের ব্রিটিশ-স্প্যানিশ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ফিল্ম "What the Peeper Saw" (অন্য নাম "Night Hair Child" বা "Diabólica Malicia") একটি বিতর্কিত এবং অস্বস্তিকর চলচ্চিত্র, যা মানুষের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা এবং অন্ধকার দিক নিয়ে কাজ করে। এটি জেমস কেলি (James Kelley) এবং আন্দ্রেয়া বিয়াঞ্চি (Andrea Bianchi) যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন।
প্লট:
ছবিটির কেন্দ্রে রয়েছে ১২ বছর বয়সী মার্কাস (মার্ক লেস্টার অভিনীত), যে দেখতে নিরীহ কিন্তু তার আচরণ অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং সন্দেহজনক। তার মা রহস্যজনকভাবে বাথটাবে ডুবে মারা যাওয়ার কিছুদিন পরেই তার বাবা পল (হার্ডি ক্রুগার অভিনীত) এলিস (ব্রিট একল্যান্ড অভিনীত) নামের একজন তরুণীকে বিয়ে করেন। এলিস হলেন পলের দ্বিতীয় স্ত্রী।
এলিস যখন মার্কাসের সাথে পরিচিত হন, তখন থেকেই তার মনে এক গভীর অস্বস্তি তৈরি হয়। মার্কাস তার বয়সের চেয়ে অনেক বেশি পরিপক্ক এবং চতুর, এবং তার আচরণ প্রায়শই বিদ্বেষপূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর। এলিস জানতে পারে যে মার্কাসকে তার বোর্ডিং স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে voyeuristic (লুকিয়ে অন্যের ব্যক্তিগত জীবন বা কার্যকলাপ দেখার অভ্যাস) আচরণের জন্য, এবং সে প্রাণীদের প্রতিও নিষ্ঠুর ছিল।
এলিস ধীরে ধীরে সন্দেহ করতে শুরু করে যে মার্কাসই তার মায়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী। সে তার স্বামীকে এই বিষয়ে বলতে চেষ্টা করে, কিন্তু পল তার ছেলেকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে এবং এলিসের সন্দেহগুলোকে তার মানসিক অস্থিরতা বলে উড়িয়ে দেয়। এর ফলে এলিস এবং পলের সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরে।
মার্কাস তার নতুন সৎ মায়ের প্রতি অদ্ভুত এবং অস্বস্তিকর আগ্রহ দেখায়। সে এলিসকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করে, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলে, এবং তাদের বেডরুমে তাদের উপর নজরদারি করে। ছবির সবচেয়ে বিতর্কিত দৃশ্যগুলির মধ্যে একটিতে, মার্কাস এলিসকে তার মায়ের মৃত্যুর সত্য বলার বিনিময়ে নগ্ন হতে বাধ্য করে। এলিস প্রথমে অনিচ্ছুক হলেও, সত্য জানার জন্য সে তা মেনে নেয়। এই দৃশ্যটি ছবির বিতর্কিত দিককে আরও তুলে ধরে।
এলিসের মানসিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। সে নিজেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন এবং অনিরাপদ মনে করে। তার সন্দেহগুলি আরও গভীর হয় এবং সে নিশ্চিত হয় যে মার্কাস কেবল তার মায়ের হত্যাকারীই নয়, বরং তাকেও হত্যা করার পরিকল্পনা করছে।
এই সময়ে, ডাঃ ভিওর্ন (লিলি পালমার অভিনীত) নামের একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে এলিসের পরিচয় হয়। ডাঃ ভিওর্ন প্রথমে এলিসের কথা শোনেন, কিন্তু পরে তিনি এলিসকেই বিভ্রান্ত এবং মানসিক ভারসাম্যহীন বলে অভিযুক্ত করেন, এমনটি এলিস মার্কাসকে যৌন হয়রানি করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন। এই পরিস্থিতিতে এলিস আরও একা হয়ে পড়ে এবং তার মানসিক চাপ চরমে পৌঁছায়।
ছবিটির শেষ ভাগে, এলিস মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেখানে সে মার্কাসকে হত্যা করার বা মার্কাসের দ্বারা নিহত হওয়ার বিভীষিকাময় স্বপ্ন দেখতে থাকে। তবে গল্পের শেষদিকে একটি আকস্মিক মোড় আসে। এলিস হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর মার্কাসকে একটি খেলার মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে একটি কুকুর একটি বল ধরতে ছুটে যায় এবং মার্কাসও তার পিছু নেয়, কিন্তু একটি দ্রুতগামী গাড়ির দ্বারা চাপা পড়ে মারা যায়।
মূল থিম এবং প্রতীকবাদ:
- শিশুদের দুষ্টুমি বনাম মানসিক বিকার: ছবিটি একটি শিশুর অন্ধকার দিককে তুলে ধরে, যেখানে আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ একটি ছেলে কিভাবে একজন sociopath (সমাজবিরোধী) হয়ে উঠতে পারে তা দেখানো হয়েছে। মার্কাস হল সেই "সমস্যাযুক্ত শিশু" যার সমস্যাগুলো আরও গভীর এবং মারাত্মক।
- দৃষ্টিভ্রম বনাম বাস্তবতা: এলিসের মানসিক অস্থিরতার কারণে দর্শক বিভ্রান্ত হয় যে, সে যা দেখছে তা কি সত্যিই ঘটছে নাকি তার মনের ভুল? এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার হিসেবে দর্শকদের মনে প্রশ্ন জাগিয়ে তোলে।
- যৌনতা এবং voyeurism: ছবির একটি প্রধান বিতর্কিত দিক হলো মার্কাসের voyeuristic আচরণ এবং এলিসের নগ্ন হওয়ার দৃশ্য। এটি ১৯৭০-এর দশকের এক্সপ্লয়টেশন সিনেমার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে যৌনতা এবং অস্বস্তিকর বিষয়বস্তু তুলে ধরা হতো।
- পারিবারিক ভাঙ্গন এবং অবিশ্বাস: পল তার ছেলের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস এবং এলিসের প্রতি তার উদাসীনতা তাদের পারিবারিক সম্পর্ককে ভেঙে দেয় এবং এলিসের দুর্ভোগের কারণ হয়।
- অন্ধকার এবং বিপদ: ছবিটি একটি অন্ধকার এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে বিপদ সবসময়ই কোণায় লুকিয়ে থাকে বলে মনে হয়।
পরিচালক:
- জেমস কেলি (James Kelley)
- আন্দ্রেয়া বিয়াঞ্চি (Andrea Bianchi)
প্রধান অভিনেতা-অভিনেত্রী:
- মার্ক লেস্টার (Mark Lester) - মার্কাস (Marcus) (শিশু অভিনেতা, যিনি "Oliver!" ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছিলেন)
- ব্রিট একল্যান্ড (Britt Ekland) - এলিস (Elise) (সৎ মা)
- হার্ডি ক্রুগার (Hardy Krüger) - পল (Paul) (বাবা)
- লিলি পালমার (Lilli Palmer) - ডাঃ ভিওর্ন (Dr. Viorne)
"What the Peeper Saw" ছবিটি তার বিতর্কিত বিষয়বস্তু এবং Mark Lester-এর "Oliver!" এর মিষ্টি ইমেজ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিতি লাভ করে। এটি একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, যা মানব মনের গভীর অন্ধকার দিক এবং সম্পর্কের জটিলতাকে তুলে ধরে।


0 Comments