Flight Risk movie explained in Bengali

Flight Risk
Flight Risk 

 

"ফ্লাইট রিস্ক" (Flight Risk) ২০২৪ সালের একটি অ্যাকশন থ্রিলার চলচ্চিত্র, যা মেল গিবসন পরিচালনা করেছেন। এই ছবিতে মার্ক ওয়াহলবার্গ, মিশেল ডকারি এবং টোফার গ্রেস প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এটি একটি টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ছবি, যা আলাস্কার জনমানবহীন বরফে ঢাকা অঞ্চলের উপর দিয়ে একটি ছোট প্লেনে সংঘটিত হয়।

গল্পের সারসংক্ষেপ:

ছবিটির মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে তিনটি প্রধান চরিত্রের মধ্যে:

১. উইনস্টন (Winston) - টোফার গ্রেস: একজন হিসাবরক্ষক, যে কিনা কুখ্যাত মোরোল্টো ক্রাইম ফ্যামিলির জন্য কাজ করত। সে এখন পুলিশের ইনফরম্যান্ট (তথ্যদাতা) হয়ে গেছে এবং মোরোল্টো পরিবারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত। আলাস্কায় লুকিয়ে থাকার সময় ডেপুটি ইউ.এস. মার্শাল তাকে গ্রেপ্তার করে।

২. ম্যাডোলিন হ্যারিস (Madolyn Harris) - মিশেল ডকারি: একজন ডেপুটি ইউ.এস. মার্শাল। উইনস্টনকে গ্রেপ্তার করার পর তার দায়িত্ব হলো তাকে নিরাপদে আলাস্কা থেকে অ্যাঙ্কোরেজে নিয়ে যাওয়া, যাতে সেখান থেকে সে নিউ ইয়র্ক সিটিতে গিয়ে মাফিয়া বস মোরোল্টোর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে পারে।

৩. ড্যারিল বুথ (Daryl Booth) - মার্ক ওয়াহলবার্গ: প্লেনের পাইলট। সে একজন টেক্সান, যে এখন আলাস্কায় থাকে এবং এই ছোট প্লেনটি চার্টার করে ম্যাডোলিন ও উইনস্টনকে নিয়ে যাচ্ছে।

গল্পের শুরু:

ম্যাডোলিন উইনস্টনকে নিয়ে অ্যাঙ্কোরেজের উদ্দেশ্যে রওনা হয় একটি ছোট প্লেনে। পাইলট ড্যারিল বুথ তাদের জানায় যে, প্লেনের রেডিও এবং জিপিএস প্রায়শই কাজ করে না। প্লেনের মাঝখানে হাতকড়া পরা অবস্থায় থাকা উইনস্টন একটি অদ্ভুত জিনিস লক্ষ্য করে। সে ড্যারিলের পাইলট লাইসেন্স দেখতে পায় এবং বুঝতে পারে যে লাইসেন্সের ছবিতে থাকা ব্যক্তি আর তাদের বর্তমান পাইলট 'ড্যারিল' এক ব্যক্তি নয়। সে ম্যাডোলিনকে সতর্ক করার চেষ্টা করে, কিন্তু ম্যাডোলিন হেডসেট পরা থাকায় তার কথা শুনতে পায় না।

ম্যাডোলিনের সাথে সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের সময়, 'ড্যারিল' এমন কিছু তথ্য বলে যা তার জানার কথা নয়। যেমন, সে ম্যাডোলিনের অতীত সম্পর্কে এমন কিছু ব্যক্তিগত তথ্য জানে যা কেবল মার্শাল অফিস থেকেই আসা সম্ভব। এর থেকেই ম্যাডোলিন সন্দেহ করতে শুরু করে যে পাইলট ড্যারিল আসলে একজন ভাড়াটে খুনি (hitman) এবং মোরোল্টো পরিবারের নির্দেশে উইনস্টনকে খুন করার জন্য এসেছে।

বিপদ এবং কৌশল:

যখন ম্যাডোলিন নিশ্চিত হয় যে ড্যারিল একজন খুনি, তখন সে তাকে টেজার দিয়ে কাবু করে এবং হাতকড়া পরিয়ে প্লেনের পেছনে বেঁধে ফেলে। এরপর ম্যাডোলিন নিজেই প্লেন চালানোর দায়িত্ব নেয়, যদিও তার পাইলট হিসেবে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। সে তার স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ক্যারোলিন ভ্যান স্যান্ট (Caroline Van Sant)-এর সাথে যোগাযোগ করে পুরো পরিস্থিতি জানায়। ক্যারোলিন তাকে জানায় যে মোরোল্টোকে বিচারের আওতায় আনতে হলে উইনস্টনকে জীবিত রাখা অত্যন্ত জরুরি।

তবে, ম্যাডোলিনের সন্দেহ আরও বাড়ে যখন সে বুঝতে পারে যে 'ড্যারিল' তার অতীত সম্পর্কে যে তথ্যগুলো জানত, সেগুলো Marshal Service-এর ভিতরের তথ্য। ম্যাডোলিন সন্দেহ করতে শুরু করে যে তার নিজের ডিপার্টমেন্টের কেউ মোরোল্টো গ্যাং-এর সাথে হাত মিলিয়েছে, সম্ভবত ক্যারোলিন ভ্যান স্যান্ট নিজেই সেই সূত্র।

এদিকে, ড্যারিল হাতকড়া থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে এবং উইনস্টনকে দু'বার ছুরিকাঘাত করে। সে ম্যাডোলিনকে সিটবেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। ম্যাডোলিন প্রায় অজ্ঞান হয়ে পড়ার মুহূর্তে, উইনস্টন সাহসিকতার সাথে নিজের বুক থেকে ছুরি বের করে সেই সিটবেল্ট কেটে দেয়, যা ম্যাডোলিনকে রক্ষা করে। ম্যাডোলিন তখন একটি ফ্লেয়ার গান দিয়ে ড্যারিলকে গুলি করে, তাকে সাময়িকভাবে অকেজো করে দেয়।

চূড়ান্ত লড়াই এবং উন্মোচন:

জিনিসগুলো আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ম্যাডোলিন জানতে পারে যে ক্যারোলিন ভ্যান স্যান্ট একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এই খবরে ম্যাডোলিনের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয় যে ক্যারোলিনই বিশ্বাসঘাতক ছিল। এরই মধ্যে, একজন গ্রাউন্ডে থাকা পাইলট (হ্যাসান নামে পরিচিত) ম্যাডোলিনকে ফোনে প্লেন কিভাবে চালাতে হয় এবং কিভাবে নিরাপদে ল্যান্ড করতে হয় তা শেখাতে শুরু করে।

উইনস্টনের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন, কারণ সে মারাত্মকভাবে আহত। ম্যাডোলিন দ্রুত প্লেন ল্যান্ড করার চেষ্টা করে, ফলে তাদের বাকি জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। প্লেন রানওয়ের দিকে নামার সময়, ড্যারিল আবার জ্ঞান ফিরে পায় এবং নিজের হাতকড়া থেকে হাত বের করার জন্য প্রায় তার হাতের চামড়া তুলে ফেলে। সে আবার ম্যাডোলিনকে আক্রমণ করে, কিন্তু ম্যাডোলিন তাকে গুলি করে প্লেন থেকে নিচে ফেলে দেয়। নিচে একটি অ্যাম্বুলেন্স তাকে চাপা দিয়ে মেরে ফেলে।

ম্যাডোলিন সফলভাবে প্লেনটি ক্র্যাশ ল্যান্ড করায়। উইনস্টনকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ম্যাডোলিন লক্ষ্য করে যে একজন সন্দেহজনক প্যারামেডিক অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে প্রবেশ করেছে। সে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের দিকে ছুটে যায় এবং দেখে যে ওই নকল প্যারামেডিক উইনস্টনকে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে শ্বাসরোধ করে মারার চেষ্টা করছে। ম্যাডোলিন দ্রুত প্যারামেডিককে গুলি করে উইনস্টনকে বাঁচায়।

শেষ পর্যন্ত, ম্যাডোলিন আবিষ্কার করে যে আসল বিশ্বাসঘাতক হলো ডিরেক্টর কোলরিজ (Director Coleridge), যিনি মোরোল্টো পরিবারের হয়ে কাজ করছিলেন এবং উইনস্টনকে মেরে ফেলার জন্য একাধিক খুনি পাঠাচ্ছিলেন। ম্যাডোলিন কোলরিজের একটি ফোন কল ধরে ফেলে, যা তার বিশ্বাসঘাতকতার প্রমাণ।

সমাপ্তি:

ছবিটির শেষে ম্যাডোলিন উইনস্টনকে বাঁচিয়ে তোলে এবং কোলরিজ ও মোরোল্টোকে বিচারের আওতায় আনার প্রতিজ্ঞা করে। প্লেনের মধ্যেকার এই উচ্চ-উত্তেজনাপূর্ণ যাত্রা শেষ হলেও, ম্যাডোলিনের লড়াই তখনও শেষ হয়নি। ছবিটি দেখায় কিভাবে এক কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষ তার বুদ্ধিমত্তা, সাহস এবং দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে টিকে থাকতে পারে, এমনকি যখন তার নিজের সিস্টেমের মধ্যে থেকেই বিপদ আসে।

Bonus movie Review : 

Emmanuelle (2024) movie explanation in Bengali : 

Emmanuelle-explained-in-bengali
Emmanuelle movie scene



২০২৪ সালের "Emmanuelle" ছবিটি একটি ফরাসি ইরোটিক ড্রামা ফিল্ম, যা পরিচালনা করেছেন অড্রে ডিওয়ান (Audrey Diwan)। এটি Emmanuelle Arsan-এর ১৯৬৭ সালের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি। এটি একই নামের সিরিজের অষ্টম থিয়েটার চলচ্চিত্র এবং সামগ্রিকভাবে পনেরোতম চলচ্চিত্র, যা একটি রিবুট হিসেবে কাজ করে।

প্লট (সংক্ষিপ্ত বিবরণ):

ছবিটির কেন্দ্রে রয়েছে এমানুয়েল (নোয়েমি মেরলান্ট অভিনীত), যিনি একটি বিলাসবহুল হোটেল ব্র্যান্ডের মান নিয়ন্ত্রক। তাকে হংকং-এর একটি হোটেল মূল্যায়ন করার জন্য পাঠানো হয়, যেখানে মার্গট (নাওমি ওয়াটস অভিনীত) নামের একজন মহিলা সেই হোটেলটি চালান। এমানুয়েলের কাজ হলো মার্গটকে বরখাস্ত করার একটি উপযুক্ত কারণ খুঁজে বের করা।

নিজের হারিয়ে যাওয়া আনন্দ বা অনুভূতি (lost pleasure) খুঁজতে গিয়ে, এমানুয়েল হোটেলের ভেতরেই নানান ধরনের সংবেদনশীল অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। এই সময়ে তার পরিচয় হয় কেই (উইল শার্প অভিনীত) নামের এক রহস্যময় ক্লায়েন্টের সাথে, যার প্রতি সে গভীরভাবে আকৃষ্ট হয়। এমানুয়েল কেই-এর প্রতি মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে, যে সবসময়ই তার নাগালের বাইরে থাকে।

ছবিটি নারীর যৌনতা এবং আকাঙ্ক্ষার ধারণা নিয়ে কাজ করে। এটি একটি বিলাসবহুল হোটেলের সেটিংয়ে বিভিন্ন সম্পর্ক এবং সংবেদনশীল মুহূর্তের অন্বেষণ করে। এটি পূর্ববর্তী "এমানুয়েল" চলচ্চিত্রগুলির মতো সরাসরি যৌনতা প্রদর্শনের চেয়ে বরং নারীর অভ্যন্তরীণ আকাঙ্ক্ষা এবং অনুভূতির উপর বেশি জোর দেয়।

প্রধান চরিত্র এবং অভিনেতা:

  • এমানুয়েল (Emmanuelle): নোয়েমি মেরলান্ট (Noémie Merlant)
  • কেই (Kei): উইল শার্প (Will Sharpe)
  • মার্গট (Margot): নাওমি ওয়াটস (Naomi Watts)
  • স্যার জন (Sir John): জেমি ক্যাম্পবেল বাওয়ার (Jamie Campbell Bower)
  • জেল্ডা (Zelda): চাছা হুয়াং (Chacha Huang)
  • এছাড়াও অ্যানামারিয়া ভার্টলোমেই, অ্যান্টনি ওং, সোফি রয়ার সহ আরও অনেকে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

পরিচালনা ও শৈলী:

পরিচালক অড্রে ডিওয়ান এই ছবিতে একটি ভিন্ন এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি এনেছেন। এটি পূর্ববর্তী "এমানুয়েল" চলচ্চিত্রগুলির মতো সফটকোর ইরোটিকা থেকে সরে এসে, নারীর আকাঙ্ক্ষা এবং মানসিক উপলব্ধির উপর মনোযোগ দিয়েছে। সিনেমার ভিজ্যুয়াল স্টাইল এবং পরিবেশ তৈরির দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে হংকং-এর বিলাসবহুল হোটেলের ভেতরের দৃশ্যগুলি বেশ আকর্ষণীয়। অনেক সমালোচক অবশ্য এই ছবিতে যৌনতা বা ইরোটিকার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, এবং এটিকে পূর্ববর্তী সংস্করণগুলির তুলনায় কম উত্তেজনাময় বলে মন্তব্য করেছেন।

মূল বিষয়বস্তু:

ছবিটি নারীত্বের পরিচয়, আকাঙ্ক্ষা এবং তার আত্ম-আবিষ্কারের একটি গল্প বলে। এমানুয়েল তার ব্যবসার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে তার নিজের ভেতরের অনুভূতিগুলিকে খুঁজে বের করতে চায়। কেই নামের রহস্যময় চরিত্রটি তার এই অন্বেষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি আধুনিক সম্পর্কের জটিলতা এবং আকাঙ্ক্ষার বিভিন্ন স্তর নিয়ে আলোকপাত করে।

Post a Comment

0 Comments