![]() |
| Divergent movie scene |
২০১৪ সালের আমেরিকান ডিসটোপিয়ান সাইন্স-ফিকশন অ্যাকশন ফিল্ম "Divergent" হল ভেরোনিকা রথের একই নামের জনপ্রিয় উপন্যাসের প্রথম চলচ্চিত্র রূপায়ণ। এটি এমন এক ভবিষ্যতের গল্প যেখানে সমাজকে কিছু নির্দিষ্ট গুণাবলীর ভিত্তিতে পাঁচটি উপদলে (Factions) ভাগ করা হয়েছে।
প্লট:
গল্পটি শিকাগোর একটি পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপটিক (যুদ্ধোত্তর ধ্বংসপ্রাপ্ত) সমাজে সেট করা হয়েছে। এই সমাজকে স্থিতিশীল রাখার জন্য মানুষের চরিত্র এবং গুণাবলীর উপর ভিত্তি করে পাঁচটি উপদলে ভাগ করা হয়েছে:
- Abnegation (পরার্থপরতা): যারা নিঃস্বার্থ, আত্মত্যাগী এবং অন্যের সেবায় নিয়োজিত। এরা সমাজের নেতা হিসেবে কাজ করে।
- Amity (বন্ধুত্ব): যারা শান্তিপ্রিয়, সদয় এবং ভালোবাসার উপর জোর দেয়। এরা কৃষিকাজ ও কাউন্সেলিং এর দায়িত্বে থাকে।
- Candor (সততা): যারা সৎ, স্পষ্টবাদী এবং ন্যায়বিচারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। এরা সমাজের বিচার ব্যবস্থা পরিচালনা করে।
- Dauntless (দুঃসাহসিকতা): যারা সাহসী, নির্ভীক এবং সমাজের রক্ষক হিসেবে কাজ করে। এরা আইন প্রয়োগকারী এবং সামরিক বাহিনীর সদস্য হয়।
- Erudite (জ্ঞান): যারা বুদ্ধিমান, কৌতূহলী এবং জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী। এরা শিক্ষক, বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদ হিসেবে কাজ করে।
১৬ বছর বয়সে, প্রতিটি তরুণ-তরুণীকে একটি যোগ্যতা পরীক্ষার (Aptitude Test) মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই পরীক্ষা তাদের প্রবণতা কোন উপদলের জন্য উপযুক্ত তা নির্দেশ করে। এরপর তাদের "চয়েস সেরিমনি" (Choice Ceremony) তে অংশ নিতে হয়, যেখানে তাদের চিরতরে একটি উপদল বেছে নিতে হয়। তারা চাইলে তাদের জন্মগত উপদলে থাকতে পারে, অথবা নতুন একটি উপদলে যোগ দিতে পারে। একবার সিদ্ধান্ত নিলে, আর পরিবর্তনের সুযোগ থাকে না।
গল্পের প্রধান চরিত্র হল বিয়াত্রিস "ট্রিস" প্রাইর (Shailene Woodley)। সে অ্যাবনিগেশন উপদলে জন্ম নেয়, যেখানে তার পরিবার বাস করে। তার যোগ্যতা পরীক্ষায় দেখা যায় যে সে কোনো একটি নির্দিষ্ট উপদলের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং তার মধ্যে একাধিক উপদলের (অ্যাবনিগেশন, এরুডাইট এবং ডন্টলেস) গুণাবলী রয়েছে। তাকে "ডাইভারজেন্ট" (Divergent) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ডাইভারজেন্টদেরকে সমাজের জন্য হুমকি মনে করা হয়, কারণ তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায় না এবং তারা এই উপদল-ভিত্তিক ব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক। তার টেস্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, টোরি (ম্যাগি কিউ), তাকে তার এই ডাইভারজেন্ট পরিচয় গোপন রাখতে বলে।
চয়েস সেরিমনিতে, ট্রিস সবাইকে অবাক করে দিয়ে ডন্টলেস উপদলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ডন্টলেসে যোগ দেওয়ার পর তাকে কঠিন এবং ভয়াবহ ট্রেনিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যেখানে শারিরীক ও মানসিক শক্তি, সাহস, এবং ভয়ের মোকাবিলা করার ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। এই ট্রেনিংয়ের সময় সে তার নির্দেশক ফোর (টোবিয়াস ইটন, থিও জেমস) এর প্রতি আকৃষ্ট হয়, যে নিজেও একজন রহস্যময় চরিত্র। ফোর ট্রিসকে তার ডাইভারজেন্ট পরিচয় গোপন রাখতে সাহায্য করে।
ট্রেনিং চলাকালীন ট্রিস ও ফোর একটি ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পারে। এরুডাইট উপদলের নেতা জেনিন ম্যাথিউস (কেট উইন্সলেট) সামরিক অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করছে, যেখানে তারা ডন্টলেসদের একটি সিমুলেশন সিরামের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে অ্যাবনিগেশন উপদলকে ধ্বংস করবে। জেনিনের বিশ্বাস যে, অ্যাবনিগেশনরা অক্ষম এবং সমাজের নেতৃত্ব দেওয়ার অযোগ্য। ডাইভারজেন্টদেরকে এই সিরাম দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, তাই তাদের মেরে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রিস এবং ফোর এই ষড়যন্ত্র ভাঙার চেষ্টা করে। তারা অন্যান্য ডাইভারজেন্ট এবং কিছু ফেসশনলেস (যাদের কোনো উপদল নেই) এর সাহায্য নেয়। ছবির চূড়ান্ত দৃশ্যে, জেনিন অ্যাবনিগেশনদের হত্যা করার জন্য ডন্টলেস সৈন্যদের ব্যবহার করার চেষ্টা করে। ট্রিস ও ফোর জেনিনের সেন্ট্রাল কম্পিউটার রুমে প্রবেশ করে, যেখানে তারা সিমুলেশন প্রোগ্রাম বন্ধ করে দেয় এবং ডন্টলেসদেরকে তাদের নিয়ন্ত্রিত অবস্থা থেকে মুক্ত করে।
ছবিটির শেষে, ট্রিস, ফোর, ট্রিসের ভাই ক্যালেব (যিনি এরুডাইট উপদলে), এবং ম্যালকম বিচ (ফোর এর বাবা এবং অ্যাবনিগেশন নেতা) সহ কিছু বেঁচে যাওয়া মানুষ অজানা ভবিষ্যতের দিকে রওনা দেয়, যেখানে তারা এই উপদল-ভিত্তিক সমাজের বাইরে একটি নতুন জীবন শুরু করার আশা করে।
প্রধান চরিত্র এবং অভিনেতা:
- বিয়াত্রিস "ট্রিস" প্রাইর (Beatrice "Tris" Prior): শেইলিন উডলি (Shailene Woodley)
- টোবিয়াস "ফোর" ইটন (Tobias "Four" Eaton): থিও জেমস (Theo James)
- জেনিন ম্যাথিউস (Jeanine Matthews): কেট উইন্সলেট (Kate Winslet)
- ক্যালেব প্রাইর (Caleb Prior): আনসেল এলগর্ট (Ansel Elgort)
- টোরি (Tori): ম্যাগি কিউ (Maggie Q)
- এরিক (Eric): জাই কোর্টনি (Jai Courtney)
- পিটার (Peter): মাইলস টেলার (Miles Teller)
- নাটালি প্রাইর (Natalie Prior): অ্যাশলে জাজ (Ashley Judd)
- অ্যান্ড্রু প্রাইর (Andrew Prior): টনি গোল্ডউইন (Tony Goldwyn)
- মার্কাশ ইটন (Marcus Eaton): রে স্টিভেনসন (Ray Stevenson)
- ক্রিস্টিনা (Christina): জো ক্রেভিটজ (Zoë Kravitz)
থিম এবং প্রতীকবাদ:
- ব্যক্তিগত পরিচয় বনাম সামাজিক শ্রেণীবিন্যাস: ছবিটি সমাজের দ্বারা চাপানো একটি নির্দিষ্ট পরিচয় গ্রহণ করার পরিবর্তে নিজের সত্যিকারের সত্ত্বাকে খুঁজে বের করার সংগ্রামকে তুলে ধরে। ডাইভারজেন্টরা এই ধারণার প্রতীক যে, মানুষ কোনো একটি বাক্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।
- স্বাধীনতা এবং নিয়ন্ত্রণ: উপদল-ভিত্তিক ব্যবস্থাটি সমাজের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রতীক, যেখানে স্বাধীন চিন্তাভাবনা এবং ভিন্নতাকে দমন করা হয়। ডাইভারজেন্টদের বিদ্রোহ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে।
- ক্ষমতার অপব্যবহার: জেনিন ম্যাথিউসের চরিত্রটি ক্ষমতা এবং জ্ঞানের অপব্যবহারের একটি উদাহরণ, যেখানে সে তার উপদলকে ব্যবহার করে অন্যদের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায়।
- ভয় এবং সাহস: ডন্টলেস উপদলের ট্রেনিং এবং ট্রিসের নিজের ভয়ের মোকাবিলা করা সাহসের গুরুত্ব এবং নিজের দুর্বলতা জয় করার ক্ষমতাকে তুলে ধরে।
- বিদ্রোহ এবং পরিবর্তন: ডাইভারজেন্টদের অস্তিত্বই প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার জন্য একটি হুমকি, এবং তাদের প্রতিরোধ সমাজের পরিবর্তনের বীজ বপন করে।
"Divergent" ছবিটি একটি ডিসটোপিয়ান জগতে তারুণ্যের সংগ্রাম, প্রেম এবং বিদ্রোহের একটি গল্প, যা দর্শকদের তারুণ্যের আত্ম-আবিষ্কারের যাত্রায় আকর্ষণ করে।

0 Comments