![]() |
| Bhool Chuk Maaf movie scene |
গল্পের শুরু বারাণসীতে।
এক শহর, এক নদী, আর এক ভালোবাসার গল্প—তিতলি মিশ্র আর রঞ্জন তিওয়ারির প্রেম যেন বারাণসীর ঘাটের মতোই পুরনো, গভীর আর রঙিন। তারা বিয়ে করতে মুখিয়ে, কিন্তু মাঝখানে দাঁড়িয়ে এক বিশাল শর্ত—তিতলির বাবা ব্রিজমোহন। তিনি সোজা বলে দেন, “সরকারি চাকরি না হলে তিতলিকে বিয়ে করার কথা ভুলে যা!”
রঞ্জন তো প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে! চাকরির খোঁজে সে প্রতিজ্ঞা করে—যদি সে সরকারি চাকরি পায়, তবে এক কাজের কাজ করবে, মানে একটা “সৎ কাজ” করবে।
কিন্তু নিয়তির পথ তো সোজা হয় না। এক রহস্যময় লোক, নাম তার “ভগবান”, তাকে টাকা খাইয়ে একটা অবৈধ চাকরি জোগাড় করে দেয়।
সব ঠিকঠাক, বিয়ের প্রস্তুতি জোরকদমে। ২৯ তারিখ—হলুদ, ৩০ তারিখ—বিয়ে!
কিন্তু মজার শুরু হয় ৩০ তারিখ আসার আগেই।
২৯ তারিখের হলুদের দিনটা কাটানোর পর রঞ্জন ঘুম থেকে উঠে দেখে—আবার ২৯!
আবার হলুদ!
আবার সেই দিন!
সে বুঝে যায়—সে সময়ের এক লুপে আটকে গেছে!
ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়, এই লুপের পেছনে আছে তার সেই অপূর্ণ প্রতিজ্ঞা। রঞ্জন ভাবে, "এখন একটা সৎ কাজ করতেই হবে, না হলে এই হলুদের দিনই চিরকাল চলবে!"
সে একের পর এক ভাল কাজের চেষ্টা করে, কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না।
হতাশ হয়ে, সে একদিন গঙ্গায় ঝাঁপ দিতে যায়। ঠিক সেই সময় দেখা হয় এক অচেনা লোকের সঙ্গে—নাম আহমেদ আনসারি। তিনিও আত্মহত্যা করতে এসেছেন, কারণ তিনি বেকার।
আশ্চর্য হলেও সত্যি, রঞ্জন জানতে পারে, এই আহমেদই সেই প্রার্থী, যার চাকরিটা ভগবান ঘুষ নিয়ে রঞ্জনকে দিয়েছিল।
এটাই সেই অন্যায়, যে কারণে রঞ্জন সময়ের লুপে আটকে গেছে।
সমাধানও স্পষ্ট—চাকরিটা ফেরত দিতে হবে আহমেদকে।
কিন্তু সমস্যা হলো, তাহলে তিতলিকে হারাতে হবে। আর বিয়েটাও যাবে ভেস্তে।
রঞ্জন দ্বিধায় পড়ে যায়। দিনটা বারবার আসে, আহমেদ প্রতিদিন আত্মহত্যা করতে যায়, আর রঞ্জন প্রতিদিন তাকে বাঁচায়।
কিন্তু আহমেদ বারবার বলে, “আমার ওই চাকরি ছাড়া কিছুই চাই না।”
এবার রঞ্জন জানতে পারে, আহমেদের লড়াই কেবল নিজের জন্য নয়। সে তার গ্রামের জন্য ওই চাকরি চায়। কারণ সেখানে নেই পানি, নেই বিদ্যুৎ, নেই কোনও সুযোগ সুবিধা। সে সরকারি চাকরি পেয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চায়।
অবশেষে, এক সকালে—আবার ২৯ তারিখে, আহমেদ এসে রঞ্জনকে একটা শেষ সুযোগ দেয়।
রঞ্জন এবার আর দেরি করে না—চাকরি ছেড়ে দেয় আহমেদের হাতে।
তবে গল্প এখানেই শেষ নয়—সবাই তো ভাবে, রঞ্জন এখনও সরকারি চাকুরে। তারা বিয়ের তোড়জোড় চালিয়ে যায়।
অবশেষে রঞ্জন সত্যি বলে দেয়—সে চাকরি ছেড়েছে।
তিতলির পরিবার, সমাজ, সবাই সমালোচনায় ফেটে পড়ে।
তিতলি নিজেও বিয়ে ভেঙে দেয়।
ঠিক তখনই প্রবেশ ঘটে সেই রহস্যময় চরিত্র—ভগবান-এর।
সে এক আবেগঘন ভাষণে বলে, “মানুষ হওয়া, মানবিকতা দেখানো, কোনও চাকরি বা টাকাপয়সার চেয়ে বড়।”
তার কথায় সবার মন গলে যায়।
তিতলি আবার ভাবে—রঞ্জনের মতো সাহসী আর সৎ প্রেমিক… তাকে কি সত্যিই ছেড়ে দেওয়া উচিত?
শেষমেশ তিতলি আবার রাজি হয় বিয়েতে।
আর বারাণসীর ঘাটে বাজে শঙ্খ—রঞ্জন আর তিতলির বিয়ে হয় ধুমধাম করে।
গল্পে প্রেম ছিল, ন্যায়বিচার ছিল, আর ছিল এক চিরন্তন বার্তা—ভালো কাজ কখনো বৃথা যায় না। 🌼📜✨

0 Comments