Apex (2021) সিনেমার কাহিনী সংক্ষেপ এবং ব্যাখ্যা:
.png) |
| Apex (2021) movie |
এই আমেরিকান অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্রুস উইলিস।
কাহিনী:
সিনেমার গল্পটি একজন প্রাক্তন পুলিশ অফিসার থমাস ম্যালোনকে (ব্রুস উইলিস) কেন্দ্র করে আবর্তিত। তিনি একটি নির্জন দ্বীপে যান, যেখানে পাঁচজন ধনী শিকারী একটি খেলার জন্য তাকে বেছে নেয়। এই খেলাটি হলো "মানুষ শিকার" (Human Hunt)। ম্যালোনকে এই দ্বীপে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং শিকারীরা তাকে খুঁজে বের করে হত্যা করার চেষ্টা করে। এই খেলার মূল উদ্দেশ্য হলো শিকারীদের রোমাঞ্চ এবং ম্যালোনকে হত্যা করার মাধ্যমে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা।
কিন্তু শিকারীরা শীঘ্রই বুঝতে পারে যে, ম্যালোন একজন সাধারণ শিকার নন। তিনি একজন প্রশিক্ষিত প্রাক্তন পুলিশ অফিসার, যিনি সহজে ধরা দিতে রাজি নন। ম্যালোন তার শিকারীদের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। তিনি দ্বীপের পরিবেশ এবং তার অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে শিকারীদের এক এক করে Eliminate করতে শুরু করেন।
শিকারীরা প্রথমে ম্যালোনকে সহজ শিকার মনে করলেও, ধীরে ধীরে তারা উপলব্ধি করে যে তারাই আসলে শিকার হচ্ছে। ম্যালোন তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে দেন এবং তাদের নিজেদের ফাঁদে ফেলে দেন। শেষ পর্যন্ত, ম্যালোন শুধুমাত্র নিজেকে রক্ষা করেন না, বরং এই অমানবিক খেলার আয়োজকদেরও মুখোমুখি হন।
পরিচালনা: এডওয়ার্ড জন ড্রেক
অভিনয়: ব্রুস উইলিস, নেইল ম্যাকডোনাফ, লক্লিন মুনরো, অ্যালেক্সিয়া ফাস্ট
ধরন: অ্যাকশন, সায়েন্স ফিকশন, থ্রিলার
রিলিজ: ১২ নভেম্বর, ২০২১
মূল বিষয়বস্তু এবং ব্যাখ্যা:
* মানব শিকারের ধারণা: সিনেমাটি একটি বিতর্কিত এবং নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ধারণা, অর্থাৎ "মানুষ শিকার" নিয়ে তৈরি। এটি সমাজের সেই অন্ধকার দিকটি তুলে ধরে যেখানে ক্ষমতার অধিকারী কিছু মানুষ নিছক বিনোদনের জন্য অন্যের জীবন নিয়ে খেলা করে।
* সারভাইভাল থ্রিলার: এটি একটি ক্লাসিক সারভাইভাল থ্রিলার যেখানে প্রধান চরিত্রকে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য লড়াই করতে হয়। ম্যালোন তার বুদ্ধি, কৌশল এবং পূর্বের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন।
* বদলা: সিনেমাটির একটি বড় অংশ জুড়ে প্রতিশোধের বিষয়টি দেখা যায়। ম্যালোন কেবল নিজেকে রক্ষা করেন না, বরং যারা তাকে শিকার বানাতে চেয়েছিল, তাদের উপরও প্রতিশোধ নেন।
* নৈতিকতা ও দুর্নীতি: এটি ক্ষমতাশালী এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের একটি অন্ধকার দিক তুলে ধরে, যারা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো আইন ভেঙে ফেলে। ম্যালোন এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান।
* মনস্তাত্ত্বিক দিক: শিকারী এবং শিকারের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইও এই সিনেমার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিকারীরা প্রথমে নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করলেও, ধীরে ধীরে ভয় এবং হতাশা তাদের গ্রাস করে।
⭐ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণঃ
🎭 অভিনয়ঃ
ব্রুস উইলিসের অভিনয়ে আগের মতো শক্তি ও ক্যারিশমা নেই, এবং মনে হয় তিনি কেবল স্ক্রিপ্ট মাফিক ডায়লগ বলেই নিজের দায়িত্ব সারছেন। অনেকাংশে তাঁর চরিত্র একঘেয়ে ও আগ্রহহীন মনে হয়েছে। নেইল ম্যাকডোনাফ তুলনামূলকভাবে কিছুটা প্রাণবন্ত পারফরম্যান্স দিয়েছেন, কিন্তু দুর্বল স্ক্রিপ্ট তাঁর প্রতিভাকে ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেনি।
🎬 চিত্রনাট্য ও পরিচালনাঃ
সিনেমাটির গল্পে মৌলিকতা বা নতুনত্ব তেমন নেই। এটি অনেকটা “The Most Dangerous Game” ধাঁচের পুরনো থিমে তৈরি, যেখানে ধনী লোকেরা গরিব বা অপরাধীদের শিকার করে বিনোদন পায়। গল্পের গতি ধীর এবং পূর্বানুমেয়। পরিচালনা দুর্বল; দৃশ্যগুলো মাঝে মাঝে এলোমেলো ও অপ্রাসঙ্গিক মনে হয়।
🎨 গ্রাফিক্স ও ভিজ্যুয়ালসঃ
যেহেতু এটি একটি সায়েন্স ফিকশন থ্রিলার, তাই অনেক ভিজ্যুয়াল এফেক্টস ব্যবহৃত হয়েছে — কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেগুলো নিম্নমানের। বনে শিকারের দৃশ্যগুলোও একঘেয়ে ও নিষ্প্রাণ।
কেন দেখবেন ?
যদি আপনি ব্রুস উইলিসের অ্যাকশন সিনেমা পছন্দ করেন এবং একটি সহজবোধ্য অ্যাকশন থ্রিলার দেখতে চান, তবে এই সিনেমাটি দেখতে পারেন। তবে, এটি সমালোচকদের কাছ থেকে খুব বেশি প্রশংসা পায়নি এবং অনেকেই এর গল্পকে পুনরাবৃত্তিমূলক বলে মনে করেছেন।
✅ ভাল দিক :
- নেইল ম্যাকডোনাফের পারফরম্যান্স কিছুটা চোখে পড়ার মতো
- থ্রিলার ঘরানার ভক্তরা কিছু অ্যাকশন মুহূর্ত উপভোগ করতে পারেন
❌ খারাপ দিক :
- দুর্বল চিত্রনাট্য
- ব্রুস উইলিসের অস্পষ্ট ও অনুপ্রাণিত অভিনয়
- নিম্নমানের ভিজ্যুয়াল এফেক্ট
- পূর্বানুমেয় ও ক্লিশে গল্প
🎯 শেষ কথাঃ
"Apex" এমন একটি সিনেমা যা অ্যাকশন বা সায়েন্স ফিকশন ভক্তদের জন্যও তেমন আনন্দদায়ক নয়। এটি ব্রুস উইলিসের ফিল্মোগ্রাফিতে একটি ভুলে যাওয়ার মতো অধ্যায়। যদি আপনি কেবলমাত্র তাঁর জন্য এই সিনেমাটি দেখতে চান, তাহলে আপনার প্রত্যাশা কম রাখা ভাল।
🌟 রেটিংঃ ১০ এর মধ্যে ৩
0 Comments